১৮ মাসের বাচ্চার ওজন: আদর্শ ওজনের পরিমাপ, স্বাস্থ্য বৃদ্ধির উপায় ও টডলার যত্নের সম্পূর্ণ গাইড
Nowshad

একটি শিশুর জীবনের প্রথম দেড় বছর বা আঠারো মাস পূর্ণ হওয়া অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ একটি মাইলফলক। এই সময়ে বাচ্চার শারীরিক গঠন, উচ্চতা এবং ওজনে এক বড় ধরনের পরিবর্তন লক্ষ্য করা যায়। সাধারণত জন্মের পর প্রথম এক বছর বাচ্চার ওজন যেভাবে বাড়ে, পরবর্তী মাসগুলোতে বৃদ্ধির গতি কিছুটা ধীর হয়ে আসে। শিশুর দেড় বছর বয়স পার হওয়ার পর প্রতিটি সচেতন মা-বাবাই জানতে চান যে তার সোনামণির শারীরিক বৃদ্ধি আন্তর্জাতিক মানদণ্ড অনুযায়ী সঠিক ট্র্যাকে আছে কিনা। তাই বর্তমান ২০২৬ সালের আধুনিক প্যারেন্টিংয়ে ১৮ মাসের বাচ্চার ওজন কত হওয়া উচিত এবং কীভাবে তার সুস্থ বৃদ্ধি বজায় রাখা যায়, তা জানা অত্যন্ত জরুরি। বাচ্চার সঠিক ওজন কেবল তার পুষ্টির পরিচয় দেয় না, বরং তার অভ্যন্তরীণ অঙ্গসংস্থান ও রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতার মজবুতিও নির্দেশ করে।
বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা বা WHO-এর চাইল্ড গ্রোথ স্ট্যান্ডার্ড অনুযায়ী, আঠারো মাস বয়সী ছেলে শিশু এবং মেয়ে শিশুদের ওজনের মধ্যে কিছুটা তারতম্য দেখা যায়। সাধারণত এই বয়সে একটি সুস্থ ছেলে বাচ্চার ওজন মোটামুটি ৯.৮ থেকে ১২.৮ কেজির মধ্যে এবং একটি মেয়ে বাচ্চার ওজন প্রায় ৯.২ থেকে ১২.২ কেজির মধ্যে থাকতে দেখা যায়। তবে মনে রাখতে হবে, এটি একটি সাধারণ নির্দেশক পরিসীমা মাত্র — প্রতিটি শিশুর জন্মের সময়কার ওজন এবং তার জিনগত বৈশিষ্ট্য আলাদা হতে পারে, তাই সঠিক মূল্যায়নের জন্য WHO-এর পূর্ণাঙ্গ পার্সেন্টাইল চার্ট অনুযায়ী পেডিয়াট্রিশিয়ানের মতামত নেওয়াই সবচেয়ে নির্ভরযোগ্য। জন্মের সময়ের ওজনের তুলনায় দেড় বছর বয়সে বাচ্চার ওজন স্বাভাবিক নিয়মে বৃদ্ধি পাওয়াটাই আসল কথা। যদি বাচ্চার ওজন এই সীমার চেয়ে কিছুটা কম বা বেশি হয়, তবে আতঙ্কিত না হয়ে তার প্রতিদিনের খাদ্য তালিকা ও জীবনযাত্রায় নজর দেওয়া উচিত।
দেড় বছর বয়সে শিশুর শারীরিক বৃদ্ধির মানদণ্ড ও ওজনের তারতম্যের কারণসমূহ
আঠারো মাস পূর্ণ হওয়ার পর বাচ্চাদের ওজন বৃদ্ধির গতি কিছুটা কমে যাওয়া খুব স্বাভাবিক ঘটনা। এই বয়সে শিশুরা অনবরত হাঁটাচলা ও ছোটাছুটি করে, যার ফলে তাদের ক্যালোরি বার্ন বা শক্তির ক্ষয় আগের চেয়ে অনেক বেড়ে যায়।
বাচ্চার ওজনের এই তারতম্যের পেছনে মূলত বেশ কিছু গভীর কারণ জড়িয়ে থাকে। দেড় বছর (১৮ মাস) বয়সী শিশুদের পাকস্থলী ছোট থাকে, তাই তাদের দিনে ৫-৬ বার অল্প পরিমাণে কিন্তু পুষ্টিকর খাবার দেওয়া উচিত। এই বয়সে তারা বড়দের প্রায় সব খাবারই খেতে পারে। যেসকল শিশু প্রাকৃতিকভাবে খুব বেশি চঞ্চল এবং সারাদিন ঘরের মধ্যে সক্রিয় থাকে, তাদের ওজন খুব দ্রুত লাফিয়ে লাফিয়ে বাড়ে না, বরং তাদের পেশী অনেক বেশি শক্ত ও মজবুত হয়। এছাড়া বাচ্চার ঘনঘন অসুস্থ হওয়া, পেটে কৃমির আক্রমণ কিংবা খাবারে সঠিক পুষ্টির অভাবের কারণেও ওজনের ঘাটতি দেখা দিতে পারে। তাই বাচ্চার কেবল বাহ্যিক ওজনের সংখ্যার দিকে না তাকিয়ে সে শারীরিকভাবে কতটা সক্রিয় এবং প্রাণবন্ত, সেটির ওপর মা-বাবাদের বেশি জোর দেওয়া উচিত।
বাড়ন্ত টডলারদের জন্য সুষম ও পুষ্টিকর খাবারের মূল উপাদানসমূহ
দেড় বছর বয়সী শিশুদের জন্য সুষম ও পুষ্টিকর খাবারের মধ্যে রয়েছে ভাত, রুটি, ডিম, মাছ, মাংস, ডাল, শাকসবজি এবং ফলমূল। এ বয়সে বড়দের মতো পরিবারের স্বাভাবিক খাবার খাওয়াতে পারেন, তবে খাবারে যেন অতিরিক্ত লবণ বা মসলা না থাকে।
এই বয়সের খাদ্য তালিকায় প্রোটিন এবং গুড ফ্যাটের ভারসাম্য রাখা অত্যন্ত দরকারি, যা বাচ্চার পেশী গঠন ও ওজনের ঘাটতি দূর করতে সরাসরি সাহায্য করে। ওজনের সঠিক বৃদ্ধির জন্য কার্বোহাইড্রেটের পাশাপাশি ফার্স্ট ক্লাস প্রোটিন হিসেবে প্রতিদিন একটি আস্ত ডিম এবং নরম করে রান্না করা মাছ বা মুরগির মাংস দেওয়া উচিত। এছাড়া বাচ্চার হাড়ের মজবুতির জন্য ক্যালসিয়ামের চাহিদা মেটাতে এই বয়স থেকে পরিমিত গরুর দুধ কিংবা ঘরে পাতা দই বা ছানা দেওয়া শুরু করা যেতে পারে। তবে মনে রাখতে হবে, বাইরের কোনো প্রসেসড বা কৃত্রিম ফুড সাপ্লিমেন্ট নয়, বরং ঘরের তৈরি তাজা খাবারই বাচ্চার সুস্থ ওজনের আসল চাবিকাঠি।
একটি আদর্শ দৈনিক খাদ্য তালিকা
বাচ্চার সুস্থ ওজন ও উচ্চতা বজায় রাখতে প্রতি বেলার খাবার সঠিক সময়ে এবং বৈচিত্র্যময় উপায়ে পরিবেশন করা প্রয়োজন। নিচে আঠারো মাস বা তার বেশি বয়সী শিশুদের জন্য একটি সুষম ঘরোয়া মিল প্ল্যান দেওয়া হলো:
১. সকালের নাস্তা (সকাল ৮টা-৯টা)
১টি ডিম (সেদ্ধ বা স্ক্র্যাম্বলড) এবং ১ টুকরো পাউরুটি বা মাখন-রুটি।
অথবা, ওটস ও কলা দিয়ে তৈরি খাবার।
সঙ্গে বুকের দুধ বা ফর্মুলা দুধ।
২. দুপুরের খাবার (দুপুর ১টা-২টা)
১-২ কাপ নরম খিচুড়ি (চাল, ডাল, মাছ অথবা মাংস, গাজর, মিষ্টি কুমড়া ও পালং শাক দিয়ে নরম করে রান্না করা)।
খাবারে অবশ্যই ১ চা চামচ ঘি বা ভালো তেল (অলিভ অয়েল) যোগ করুন।
৩. বিকালের নাস্তা (বিকেল ৪টা-৫টা)
ঘরে তৈরি সুজির হালুয়া, সাবুদানা বা পায়েশ।
অথবা, মৌসুমী ফল (যেমন: পাকা কলা, পেঁপে, আপেল বা আম) ও মিষ্টি দই।
৪. রাতের খাবার (রাত ৮টা-৯টা)
নরম ভাত, সাথে মাছ বা মুরগির মাংসের পাতলা ঝোল ও সবজি।
অথবা, রুটি বা চাপাতি সবজি দিয়ে ভালোভাবে চটকে দেওয়া।
৫. ঘুমানোর আগে
বুকের দুধ অথবা এক কাপ হালকা গরম গরুর দুধ (যদি শিশু গরুর দুধ সহ্য করতে পারে)।
বাড়ন্ত শিশুর পুষ্টি ও ওজন বৃদ্ধির জন্য জরুরি কিছু টিপস
আঠারো মাস পার হওয়া শিশুদের খাবার খাওয়ানো এবং তাদের ওজন ধরে রাখার ক্ষেত্রে কেবল মেন্যু চার্ট জানাই যথেষ্ট নয়। এর সাথে কিছু প্র্যাকটিক্যাল গাইডলাইন এবং নিরাপত্তা সতর্কতা মেনে চলা অত্যন্ত জরুরি:
চিনি ও লবণ: দুই বছরের কম বয়সী শিশুর খাবারে বাইরের বা অতিরিক্ত চিনি দেওয়া থেকে বিরত থাকুন। লবণের পরিমাণও একদম সামান্য হতে হবে। অতিরিক্ত পরিশোধিত চিনি বাচ্চার স্বাভাবিক ক্ষুধা ও স্বাদের অভ্যাসের ওপর নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে।
নিরাপত্তা: গলার ভেতরে আটকে যেতে পারে এমন খাবার (যেমন: আস্ত বাদাম, শক্ত ক্যান্ডি বা বড় আঙুর) দেওয়া থেকে বিরত থাকুন। যেকোনো শক্ত ফল বা সবজি দেওয়ার আগে তা ভালোভাবে সেদ্ধ বা পিষে নেওয়া নিশ্চিত করুন।
ফিঙ্গার ফুড: শিশুকে নিজের হাতে খাওয়ার বা সেলফ-ফিডিংয়ের অভ্যাস করাতে সেদ্ধ গাজর, নরম মিষ্টি আলুর টুকরো বা কলার স্লাইস দিতে পারেন। এটি বাচ্চার ফাইন মোটর স্কিল বা হাতের ছোট পেশীগুলোকে মজবুত করতে সাহায্য করে।
ইউনিসেফ গাইডলাইন: বিস্তারিত ও নির্ভরযোগ্য তথ্যের জন্য ইউনিসেফ প্যারেন্টিং গাইডলাইনটি দেখতে পারেন। শিশুর শারীরিক অবস্থা অনুযায়ী খাবারের পরিমাণের তারতম্য হলে অবশ্যই বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকের পরামর্শ নিন।
প্লাস্টিক ফিডিং পাত্রের ক্ষতিকর বিপিএ টক্সিন ও বাচ্চার স্বাভাবিক বৃদ্ধিতে এর প্রভাব
অনেক অভিভাবক বাচ্চার ওজনের ঘাটতি দূর করতে সেরা পুষ্টিকর উপাদানগুলো রান্নার জন্য বেছে নেন, কিন্তু খাবার পরিবেশনের পাত্র এবং বাচ্চার হাতের খেলনা নির্বাচনে বড় ধরনের ভুল করে বসেন। বাজারে পাওয়া যাওয়া সস্তা ও আকর্ষণীয় রঙিন প্লাস্টিকের বাটি, চামচ, ফিডার বা খেলনাগুলো বাচ্চার শরীরের জন্য ক্ষতিকর হতে পারে।
অধিকাংশ সাধারণ প্লাস্টিক সামগ্রীতে বিপিএ, থ্যালেট এবং ক্ষতিকারক সীসার মতো বিষাক্ত রাসায়নিক উপাদান থাকতে পারে। যখন এই পাত্রগুলোতে গরম খিচুড়ি বা দুধ ঢালা হয়, তখন রাসায়নিক উপাদানগুলো খাবারের সাথে মিশে যেতে পারে। গবেষণা বলছে, এই ধরনের টক্সিন এন্ডোক্রাইন সিস্টেম বা হরমোন গ্রন্থিতে প্রভাব ফেলতে পারে, যা দীর্ঘমেয়াদে শিশুর স্বাভাবিক বৃদ্ধি ও রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতার ওপর নেতিবাচক প্রভাব ফেলার আশঙ্কা তৈরি করে। এই কারণেই বাচ্চার শৈশবকে সুরক্ষিত রাখতে সম্পূর্ণ টক্সিন-মুক্ত, ইকো-ফ্রেন্ডলি এবং নিরাপদ উপাদান ব্যবহার করা অত্যন্ত জরুরি।
BrainyBox BD - স্ক্রিন আসক্তি মুক্ত ও প্রাকৃতিকভাবে শিশুর মেধা ও স্বাস্থ্যের সুরক্ষিত জগৎ
আপনার বাচ্চার শারীরিক পুষ্টি এবং ওজনের সঠিক গ্রোথের জন্য যেমন তাজা ও ঘরের তৈরি সুষম খাবারের প্রয়োজন, ঠিক তেমনি তার মানসিক মেধার পুষ্টির জন্য প্রয়োজন একটি নিরাপদ ও উদ্দীপনামূলক খেলার পরিবেশ। এই আধুনিক যুগের প্লাস্টিক টক্সিন এবং ডিজিটাল স্ক্রিনের আগ্রাসন থেকে শিশুদের রক্ষা করতে কাজ করছে BrainyBox BD। আমরা অভিভাবক হিসেবে খুব ভালো করেই জানি যে, একটি শিশুর জীবনের প্রথম কয়েকটি বছর তার ভবিষ্যৎ মেধার ভিত্তি গড়ে তোলে।
আমাদের প্ল্যাটফর্মে আমরা কোনো সাধারণ বা যাচাই ছাড়া বাণিজ্যিক খেলনা রাখি না। BrainyBox BD-এর প্রতিটি প্লে-কিট এবং লার্নিং টুলস চাইল্ড ডেভেলপমেন্ট এক্সপার্ট বা শিশু বিশেষজ্ঞদের পরামর্শে বাচ্চার সুনির্দিষ্ট বয়স ও মাসের মাইলফলক অনুযায়ী বাছাই করা হয়। আমাদের সবচেয়ে বড় বৈশিষ্ট্য হলো—প্রতিটি পণ্য বিশ্বস্ত আন্তর্জাতিক সোর্স থেকে সংগ্রহ করে, আমদানির আগে ম্যাটেরিয়াল সেফটি, নন-টক্সিক ফিনিশিং এবং টেকসইতা যাচাই করে নেওয়া হয়। আমাদের চিন্তাশীল কিউরেশন ও কালচারালি ইনক্লুসিভ বইগুলো বাচ্চাদের প্রাকৃতিকভাবে কৌতূহলী করে তোলে এবং কোনো ডিজিটাল ডিভাইস ছাড়াই তাদের মেধার ও শরীরের প্রাকৃতিক বিকাশ নিশ্চিত করে।
BrainyBox BD-এর বিশেষ থ্রি-স্টেপ সাবস্ক্রিপশন প্রসেস যেভাবে ব্যস্ত মা-বাবার লাইফ সহজ করে
বাচ্চার শারীরিক পুষ্টি ও ওজনের পাশাপাশি তার মানসিক মাইলফলকগুলো ধরে ধরে প্রতি মাসে নতুন শিক্ষণীয় উপাদান বাজারে গিয়ে খুঁজে নেওয়া বেশ কঠিন কাজ। এই সমস্যার এক আধুনিক সমাধান নিয়ে এসেছে BrainyBox BD-এর মান্থলি সাবস্ক্রিপশন সার্ভিস। মাত্র ৩টি সহজ পদক্ষেপে প্রতি মাসে সঠিক লার্নিং বক্স পৌঁছে যাবে আপনার দরজায়:
উপযুক্ত প্ল্যানটি বেছে নিন: আমাদের অফিশিয়াল ওয়েবসাইটে প্রবেশ করে আপনার বাচ্চার বর্তমান বয়স এবং তার কগনিটিভ বিকাশের ধাপ অনুযায়ী নির্দিষ্ট প্যাকেজটি সিলেক্ট করুন। ১ বছরের বেশি বয়সীদের জন্য আমাদের বয়স-উপযোগী প্লে কিট কালেকশন থেকেও সরাসরি বেছে নিতে পারেন।
কিউরেটেড প্লে এসেনশিয়ালস বুঝে নিন: আপনার অর্ডার কনফার্ম হওয়ার সাথে সাথে আমাদের বিশেষজ্ঞরা বাচ্চার বয়সোপযোগী ইকো-ফ্রেন্ডলি, সেন্সরি-রিচ খেলনা এবং আকর্ষণীয় ইনফ্যান্ট বইয়ের একটি সুন্দর বক্স প্যাক করে সরাসরি আপনার হোম ডেলিভারি ঠিকানায় পাঠিয়ে দেবে।
শেখা ও আবিষ্কারের আনন্দ উপভোগ করুন: আপনার সন্তানকে দিন সম্পূর্ণ স্ক্রিন-মুক্ত, হ্যান্ডস-অন খেলার এক অপূর্ব স্বাধীনতা, যা প্রতি মুহূর্তে তার ব্রেইন ডেভেলপমেন্টে সাহায্য করবে এবং তার শরীরকে রাখবে সক্রিয় ও সুস্থ।
টডলার পিকি ইটিং এবং খাবারের টেবিলে গ্যাজেট আসক্তি দূর করার প্যারেন্টিং কৌশল
১ বছর পার হওয়ার পর বাচ্চাদের মধ্যে হঠাৎ করেই খাবারে তীব্র অরুচি বা খাওয়ার সময় জেদ করার প্রবণতা দেখা যায়, যাকে শিশু বিজ্ঞানের ভাষায় পিকি ইটিং বলা হয়। অনেক মা-বাবা এই সময়ে বাচ্চাকে শান্ত করতে বা জোর করে খাওয়াতে মোবাইল স্ক্রিনের সাহায্য নেন, যা বাচ্চার স্বাস্থ্যের জন্য এক ধরনের নীরব ক্ষতি।
স্ক্রিনের উজ্জ্বল আলো এবং দ্রুত পরিবর্তনশীল গ্রাফিক্স বাচ্চার মনোযোগকে খাবার থেকে সম্পূর্ণ দূরে সরিয়ে দেয়। এর ফলে শিশু নিজের ক্ষুধা ও পেট ভরার সংকেত ঠিকমতো বুঝতে পারে না, ফলে সে হয় প্রয়োজনের চেয়ে কম খায় নয়তো তাড়াহুড়ো করে না চিবিয়ে গিলে ফেলে—দুটোই দীর্ঘমেয়াদে অনিয়মিত খাওয়ার অভ্যাস ও পুষ্টির ঘাটতির কারণ হতে পারে। এই সমস্যা দূর করতে জোরজুলুম না করে খাবারের পরিবেশকে আনন্দময় করতে হবে। বাচ্চা যখন ঘরের ভেতরেই কোনো ডিভাইস ছাড়া BrainyBox-এর মতো সৃজনশীল খেলনা নিয়ে খেলবে, তখন তার শারীরিক সক্রিয়তা ও কৌতূহল বাড়বে, প্রাকৃতিকভাবে এনার্জি বার্ন হবে এবং সে ক্ষুধার্ত হয়ে সঠিক সময়ে কোনো জেদ ছাড়াই খাবার খেতে চাইবে।
অনলাইন শপিং বনাম অফলাইন মার্কেট: সচেতন মা-বাবার আধুনিক ও নিরাপদ মাধ্যম
একটি ছোট বাচ্চা ঘরে রেখে প্রচণ্ড জ্যাম, ধুলোবালি এবং ভিড়ের মধ্যে সশরীরে গিয়ে বাচ্চার জন্য টক্সিন-মুক্ত শপিং করা বা সঠিক লার্নিং উপাদান খুঁজে বের করা অত্যন্ত ক্লান্তিকর ও কষ্টসাধ্য কাজ। তাছাড়া অফলাইন দোকানে পণ্যের উপাদানের শতভাগ নিশ্চয়তা পাওয়া যায় না।
এর বিপরীতে অনলাইন শপিং আপনাকে দিচ্ছে ঘরে বসে, শান্ত মাথায় সব পণ্যের রিভিউ এবং উপাদান যাচাই করে অর্ডার করার পরম স্বাধীনতা। BrainyBox BD-এ আমরা অভিভাবকদের দিচ্ছি একটি ওয়ান-স্টপ লার্নিং সলিউশন। আমাদের ওয়েবসাইটে প্রতিটি প্রোডাক্টের বয়সসীমা, কার্যকারিতা এবং ম্যাটেরিয়ালের বিবরণ বিস্তারিতভাবে দেওয়া আছে। সাথে থাকছে ক্যাশ অন ডেলিভারি এবং ৩-দিনের অত্যন্ত সহজ রিপ্লেসমেন্ট সুবিধা, যার ফলে আপনার কেনাকাটা হয়ে ওঠে সম্পূর্ণ দুশ্চিন্তামুক্ত ও নিরাপদ।
১৮ মাসের বাচ্চার ওজন ও সুস্থ বৃদ্ধি নিয়ে কিছু সাধারণ প্রশ্ন ও উত্তর (FAQ)
১. বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা (WHO) অনুযায়ী ১৮ মাসের বাচ্চার আদর্শ ওজন কত হওয়া উচিত? WHO-এর চাইল্ড গ্রোথ স্ট্যান্ডার্ড অনুযায়ী, ১৮ মাস বয়সে একটি সুস্থ ছেলে বাচ্চার ওজন সাধারণত ৯.৮ থেকে ১২.৮ কেজি এবং একটি মেয়ে বাচ্চার ওজন প্রায় ৯.২ থেকে ১২.২ কেজির মধ্যে থাকা স্বাভাবিক ধরা হয়, তবে এটি একটি সাধারণ পরিসীমা — সঠিক মূল্যায়নের জন্য পূর্ণাঙ্গ WHO পার্সেন্টাইল চার্ট দেখে পেডিয়াট্রিশিয়ানের পরামর্শ নেওয়া উচিত।
২. ১৮ মাস বয়সী বাচ্চার প্রতিবেলার খাবারের সঠিক পরিমাণ কতটুকু হওয়া উচিত? এই বয়সের বাচ্চাদের পাকস্থলী বেশ ছোট থাকে, তাই প্রতিবেলা প্রধান খাবারের আদর্শ পরিমাণ হওয়া উচিত ২০০ মিলিলিটার বা এক কাপের মতো।
৩. BrainyBox BD-এর প্রোডাক্টগুলো বাচ্চার শারীরিক সক্রিয়তা ও সুস্থ বৃদ্ধিতে কীভাবে সাহায্য করে? BrainyBox BD-এর খেলনা ও বইগুলো হ্যান্ডস-অন এবং স্ক্রিন-ফ্রি খেলার জন্য ডিজাইন করা। এগুলো বাচ্চাদের মোবাইল থেকে দূরে রেখে ঘরের ভেতরেই বিভিন্ন শারীরিক ও মানসিক অ্যাক্টিভিটিতে ব্যস্ত রাখে, যা তাদের শারীরিক সক্রিয়তা বাড়িয়ে প্রাকৃতিকভাবে ক্ষুধা তৈরিতে সহায়ক হতে পারে।
৪. বাচ্চার খাবারে চিনির বিকল্প হিসেবে কী ব্যবহার করা সবচেয়ে নিরাপদ? ১ বছর পার হওয়ার পর বাচ্চার খাবারে পরিশোধিত সাদা চিনির বদলে সম্পূর্ণ প্রাকৃতিক মিষ্টি উপাদান যেমন খেজুরের পেস্ট বা সামান্য খাঁটি গুড় ব্যবহার করা উচিত।
৫. BrainyBox BD-এর মান্থলি সাবস্ক্রিপশন বক্সের ডেলিভারি পেতে কতদিন সময় লাগে? আমরা সমগ্র বাংলাদেশে অত্যন্ত বিশ্বস্ততার সাথে হোম ডেলিভারি দিয়ে থাকি। ঢাকা শহরের ভেতরে সাধারণত ২৪ থেকে ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে এবং ঢাকার বাইরে যেকোনো জেলা বা উপজেলা পর্যায়ে ৩ থেকে ৫ কার্যদিবসের মধ্যে আমাদের এই বিশেষ ব্রেইন-বুস্টিং লার্নিং বক্সটি আপনার ঠিকানায় পৌঁছে যাবে।
৬. আপনাদের কাপড়ের তৈরি বইগুলো কি ধোয়া যায়? হ্যাঁ, BrainyBox-এর কাপড়ের তৈরি সফট বুক এবং সেন্সরি খেলনাগুলো সম্পূর্ণ ওয়াশেবল। এগুলো বাচ্চাদের উপযোগী মাইল্ড লিকুইড ডিটারজেন্ট দিয়ে হাত দিয়ে ধুয়ে কড়া রোদে শুকিয়ে নিলে আবার একদম জীবাণুমুক্ত হয়ে যায়।
৭. কুরিয়ারে আসার পর কোনো পণ্য ত্রুটিপূর্ণ বের হলে আপনাদের পলিসি কী? আমরা প্রতিটি বক্স কুরিয়ারে দেওয়ার আগে কঠোরভাবে কোয়ালিটি চেক করে থাকি। তারপরেও যদি কোনো কারণে আপনার কাছে ত্রুটিপূর্ণ পণ্য পৌঁছায়, তবে আমাদের ৩-দিনের একটি সহজ রিপ্লেসমেন্ট পলিসি রয়েছে। আপনি সরাসরি আমাদের হটলাইনে কল করে বা ফেসবুক পেজে মেসেজ দিলেই আমরা সেটি দ্রুত পরিবর্তন করে দেব।
সুষম পুষ্টি এবং আনন্দময় শৈশবের এক সুন্দর মেলবন্ধন
দিনশেষে, একটি সুস্থ ১৮ মাসের বাচ্চার ওজন বজায় রাখার মূল উদ্দেশ্য কেবল ওজনের সংখ্যার গ্রাফ বাড়ানো নয়; বরং তাকে ঘরের তৈরি তাজা খাবারের পুষ্টির মাধ্যমে একটি শক্তিশালী রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা এবং প্রাণবন্ত শৈশবের সূচনা এনে দেওয়া। খাবারের জোরজুলুম বা মোবাইল স্ক্রিনের ক্ষতিকর অভ্যাস পরিহার করে, বাচ্চার প্রতিদিনের খাওয়া এবং খেলাকে করতে হবে সম্পূর্ণ স্ক্রিন-মুক্ত ও সৃজনশীল।
আপনার সোনামণিকে শারীরিক পুষ্টির পাশাপাশি একটি চমৎকার, সুরক্ষিত এবং ডিজিটাল স্ক্রিন-মুক্ত মানসিক মেধা বিকাশের জগৎ উপহার দিতে আজই ভিজিট করুন BrainyBox BD। আপনার বাচ্চার বয়স অনুযায়ী সেরা লার্নিং বা সাবস্ক্রিপশন প্যাকেজটি বেছে নিয়ে তার প্রতিদিনের বেড়ে ওঠাকে করুন আরও পুষ্টিকর, অর্থপূর্ণ এবং জাদুকরী!



