16 মাসের বাচ্চার খাবার তালিকা: আদর্শ দৈনিক পুষ্টির নিয়ম, সুষম ডায়েট চার্ট ও শিশুর সম্পূর্ণ যত্ন
Nowshad

শিশুর বয়স যখন ১৬ মাস বা ১ বছর ৪ মাস পূর্ণ হয়, তখন তার শারীরিক বৃদ্ধি ও বুদ্ধিমত্তার বিকাশে এক অভাবনীয় রূপান্তর লক্ষ্য করা যায়। এই বয়সের বাচ্চারা অত্যন্ত চঞ্চল ও কৌতূহলী প্রকৃতির হয়ে থাকে। তারা এখন কেবল ঘরের মধ্যে স্বাধীনভাবে হাঁটাচলা করে না, বরং ছোট ছোট জিনিস এক জায়গা থেকে অন্য জায়গায় নেওয়া, ইশারায় কথা বলা এবং বড়দের অনুকরণ করার চেষ্টা করে। যেহেতু এই সময়ে তাদের শারীরিক সক্রিয়তা বেড়ে যায়, তাই তাদের প্রতিদিনের পুষ্টি ও ক্যালোরির চাহিদাও আগের চেয়ে ভিন্ন হয়। একজন সচেতন মা-বাবা হিসেবে এই বাড়ন্ত সময়ে সন্তানের সঠিক ওজন, উচ্চতা এবং হাড়ের মজবুতি নিশ্চিত করতে একটি সুষম ১৬ মাসের বাচ্চার খাবার তালিকা অনুসরণ করা অত্যন্ত জরুরি। বাচ্চার প্রতিদিনের খাদ্য চার্ট এমন হওয়া উচিত যা তার রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতাকে ভেতর থেকে শক্তিশালী করবে।
বর্তমান ২০২৬ সালের আধুনিক চাইল্ড নিউট্রিশন বিজ্ঞান অনুযায়ী, ছোট বাচ্চাদের পুষ্টির সবচেয়ে বড় অন্তরায় হয়ে দাঁড়িয়েছে খাবারের টেবিলে মোবাইল ফোন বা টিভি স্ক্রিনের অতিরিক্ত আসক্তি। অনেক পরিবারেই দেখা যায় বাচ্চার খাবারে মনোযোগ ফিরিয়ে আনতে বা তাকে শান্তভাবে খাওয়াতে কার্টুন কিংবা ভিডিও চালিয়ে দেওয়া হয়। শিশু বিশেষজ্ঞদের মতে, স্ক্রিনের দিকে তাকিয়ে থাকা অবস্থায় বাচ্চা নিজের ক্ষুধা ও পেট ভরার সংকেত ঠিকমতো বুঝতে পারে না এবং খাবারের স্বাদ, গন্ধ বা টেক্সচারের প্রতি মনোযোগ হারিয়ে ফেলে। এর ফলে সে হয় প্রয়োজনের চেয়ে কম খায় নয়তো তাড়াহুড়ো করে গিলে ফেলে—দুটোই দীর্ঘমেয়াদে অনিয়মিত খাওয়ার অভ্যাস ও ওজনের ঘাটতির কারণ হতে পারে। তাই বাচ্চার পুষ্টিকর খাবারের পাশাপাশি তার খাওয়ার অভ্যাসকে সম্পূর্ণ স্ক্রিন-মুক্ত ও আনন্দময় রাখা আবশ্যক।
বাড়ন্ত টডলারদের পুষ্টির প্রয়োজনীয়তা ও হজম প্রক্রিয়ার বিশেষ ধরন
১৬ মাস বয়সী বাচ্চাদের পাকস্থলী স্বাভাবিকভাবেই বড়দের তুলনায় অনেক ছোট এবং সংবেদনশীল থাকে। তাই তারা একবারে খুব বেশি খাবার একসাথে গ্রহণ করতে পারে না। এই কারণে তাদের সারাদিনের পুষ্টির চাহিদা মেটাতে অল্প পরিমাণে কিন্তু ক্যালোরি-ঘন খাবার বারে বারে দেওয়া উচিত।
১৬ মাস (১ বছর ৪ মাস) বয়সী শিশুদের পাকস্থলী ছোট থাকে, তাই তাদের দিনে ৫-৬ বার অল্প পরিমাণে কিন্তু পুষ্টিকর খাবার দেওয়া উচিত। এই বয়সে তারা বড়দের প্রায় সব খাবারই খেতে পারে। এই সময়ে বাচ্চার শরীরের কোষ ও পেশী গঠনের জন্য প্রথম শ্রেণীর প্রোটিন যেমন—ডিম, নরম করে রান্না করা মুরগির মাংস এবং মাছ নিয়মিত দেওয়া প্রয়োজন। কার্বোহাইড্রেটের জন্য লাল চালের ভাত, ওটস কিংবা সুজি চমৎকার শক্তির উৎস হিসেবে কাজ করে। তবে বাচ্চার খাবারের এই পুষ্টি যেন তার শরীর সঠিকভাবে গ্রহণ করতে পারে, তার জন্য খাবারের উপাদান এবং রান্নার পদ্ধতি খুব সহজ ও তেল-মসলাহীন হওয়া উচিত।
একটি আদর্শ দৈনিক খাদ্য তালিকা
বাচ্চার সারাদিনের পুষ্টির ভারসাম্য বজায় রাখতে এবং শরীরের ক্লান্তি দূর করতে প্রতি বেলার খাবার সঠিক সময়ে পরিবেশন করা উচিত। নিচে ১৬ মাস বয়সী শিশুদের জন্য একটি আদর্শ দৈনিক খাদ্য তালিকা দেওয়া হলো:
১. সকালের নাস্তা (সকাল ৮টা-৯টা)
১টি ডিম (সেদ্ধ বা স্ক্র্যাম্বলড) এবং ১ টুকরো পাউরুটি বা মাখন-রুটি।
অথবা, ওটস ও কলা দিয়ে তৈরি পুষ্টিকর খাবার।
সঙ্গে বুকের দুধ বা ফর্মুলা দুধ।
২. দুপুরের খাবার (দুপুর ১টা-২টা)
১-২ কাপ নরম খিচুড়ি (চাল, ডাল, মাছ অথবা মাংস, গাজর, মিষ্টি কুমড়া ও পালং শাক দিয়ে নরম করে রান্না করা)।
খাবারের পুষ্টিগুণ ও ক্যালোরি বাড়াতে অবশ্যই ১ চা চামচ ঘি বা ভালো তেল (যেমন অলিভ অয়েল) যোগ করুন।
৩. বিকালের নাস্তা (বিকেল ৪টা-৫টা)
ঘরে তৈরি সুজির হালুয়া, সাবুদানা বা সুস্বাদু পায়েস।
অথবা, তাজা মৌসুমী ফল (যেমন: পাকা কলা, পেঁপে, আপেল বা মিষ্টি আম) ও ঘরে পাতা মিষ্টি দই।
৪. রাতের খাবার (রাত ৮টা-৯টা)
নরম ভাত, সাথে মাছ বা মুরগির মাংসের পাতলা ঝোল ও সবজি।
অথবা, নরম রুটি বা চাপাতি সবজি দিয়ে ভালোভাবে চটকে বা নরম করে দেওয়া।
৫. ঘুমানোর আগে
বুকের দুধ অথবা এক কাপ হালকা গরম গরুর দুধ (যদি শিশু গরুর দুধ সহজে হজম করতে বা সহ্য করতে পারে)।
বাড়ন্ত শিশুর সুস্থতা ও রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বৃদ্ধিতে জরুরি কিছু টিপস
ছোট শিশুদের খাবার খাওয়ানো এবং তাদের ওজনের গ্রোথ ধরে রাখার ক্ষেত্রে কেবল মেন্যু চার্ট জানাই যথেষ্ট নয়। এর সাথে কিছু প্র্যাকটিক্যাল গাইডলাইন এবং নিরাপত্তা সতর্কতা মেনে চলা অত্যন্ত জরুরি:
চিনি ও লবণ: দুই বছর বয়স পর্যন্ত বাড়তি চিনি এড়িয়ে চলার পরামর্শ দেয় আমেরিকান একাডেমি অফ পেডিয়াট্রিক্স, কারণ অতিরিক্ত পরিশোধিত চিনি বাচ্চার স্বাভাবিক ক্ষুধা ও স্বাদের অভ্যাস নষ্ট করতে পারে। লবণের পরিমাণও এই বয়সে একদম সামান্য রাখা ভালো।
নিরাপত্তা: গলার ভেতরে আটকে যেতে পারে এমন খাবার (যেমন: আস্ত বাদাম, শক্ত ক্যান্ডি বা বড় আঙুর) দেওয়া থেকে সম্পূর্ণ বিরত থাকুন। যেকোনো শক্ত ফল বা সবজি দেওয়ার আগে তা ভালোভাবে সেদ্ধ বা পিষে নেওয়া নিশ্চিত করুন।
ফিঙ্গার ফুড: শিশুকে নিজের হাতে খাওয়ার বা সেলফ-ফিডিংয়ের অভ্যাস করাতে সেদ্ধ গাজর, নরম মিষ্টি আলুর টুকরো বা কলার স্লাইস দিতে পারেন। এটি বাচ্চার ফাইন মোটর স্কিল বা হাতের ছোট পেশীগুলোকে মজবুতি প্রদান করতে দারুণ সাহায্য করে।
ইউনিসেফ গাইডলাইন: বিস্তারিত ও নির্ভরযোগ্য তথ্যের জন্য ইউনিসেফ প্যারেন্টিং গাইডলাইনটি দেখতে পারেন। শিশুর শারীরিক অবস্থা অনুযায়ী খাবারের পরিমাণের তারতম্য হলে অবশ্যই বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকের পরামর্শ নিন।
প্লাস্টিক ফিডিং পাত্রের আড়ালে থাকা রাসায়নিক বিষ এবং শিশুর স্বাভাবিক বৃদ্ধিতে বাধা
আমরা অনেকেই বাচ্চার পুষ্টিকর খাবার রান্নার পেছনে প্রচুর সময় ও অর্থ ব্যয় করি, কিন্তু খাবার পরিবেশনের পাত্র এবং বাচ্চার খেলার সামগ্রী নির্বাচনের সময় মারাত্মক এক ভুল করে বসি। বাজারে সস্তায় পাওয়া যাওয়া আকর্ষণীয় রঙিন প্লাস্টিকের বাটি, চামচ, ফিডার ও খেলনাগুলোতে প্রায়ই এমন উপাদান থাকে যা নিয়ে সচেতন থাকা জরুরি।
অধিকাংশ সাধারণ ও নিম্নমানের প্লাস্টিকের খেলনা এবং ফিডিং পাত্রে বিপিএ, থ্যালেট এবং ক্ষতিকারক সীসার মতো টক্সিন থাকতে পারে। ১৬ মাসের শিশুরা খেলার ছলে অনেক সময় খেলনা মুখে দেয় বা এই পাত্রগুলোতে গরম খাবার পরিবেশন করা হলে রাসায়নিক উপাদানগুলো খাবারের সাথে মিশে যেতে পারে। গবেষণা বলছে, এই ধরনের টক্সিন বাচ্চার এন্ডোক্রাইন সিস্টেম বা হরমোন গ্রন্থিতে প্রভাব ফেলতে পারে, যা দীর্ঘমেয়াদে তার স্বাভাবিক শারীরিক বৃদ্ধির ওপর নেতিবাচক প্রভাব ফেলার আশঙ্কা তৈরি করে। এই কারণেই বাচ্চার খেলনা ও ব্যবহার্য জিনিস নির্বাচনের সময় সম্পূর্ণ টক্সিন-মুক্ত এবং ইকো-ফ্রেন্ডলি উপাদান বেছে নেওয়া অত্যন্ত জরুরি।
BrainyBox BD - স্ক্রিন আসক্তি মুক্ত ও প্রাকৃতিকভাবে শিশুর মেধা ও স্বাস্থ্যের সুরক্ষিত জগৎ
আপনার বাচ্চার শারীরিক পুষ্টি এবং ওজনের সঠিক গ্রোথের জন্য যেমন তাজা ও ঘরের তৈরি সুষম খাবারের প্রয়োজন, ঠিক তেমনি তার মানসিক মেধার পুষ্টির জন্য প্রয়োজন একটি নিরাপদ ও উদ্দীপনামূলক খেলার পরিবেশ। এই আধুনিক যুগের প্লাস্টিক টক্সিন এবং ডিজিটাল স্ক্রিনের আগ্রাসন থেকে শিশুদের রক্ষা করতে কাজ করছে BrainyBox BD। আমরা অভিভাবক হিসেবে খুব ভালো করেই জানি যে, একটি শিশুর জীবনের প্রথম কয়েকটি বছর তার ভবিষ্যৎ মেধার ভিত্তি গড়ে তোলে।
আমাদের প্ল্যাটফর্মে আমরা কোনো সাধারণ বা যাচাই ছাড়া বাণিজ্যিক খেলনা রাখি না। BrainyBox BD-এর প্রতিটি প্লে-কিট এবং লার্নিং টুলস চাইল্ড ডেভেলপমেন্ট এক্সপার্ট বা শিশু বিশেষজ্ঞদের পরামর্শে বাচ্চার সুনির্দিষ্ট বয়স ও মাসের মাইলফলক অনুযায়ী বাছাই করা হয়। আমাদের সবচেয়ে বড় বৈশিষ্ট্য হলো—প্রতিটি পণ্য বিশ্বস্ত আন্তর্জাতিক সোর্স থেকে সংগ্রহ করে, আমদানির আগে ম্যাটেরিয়াল সেফটি, নন-টক্সিক ফিনিশিং এবং টেকসইতা যাচাই করে নেওয়া হয়। আমাদের চিন্তাশীল কিউরেশন ও কালচারালি ইনক্লুসিভ বইগুলো বাচ্চাদের প্রাকৃতিকভাবে কৌতূহলী করে তোলে এবং কোনো ডিজিটাল ডিভাইস ছাড়াই তাদের মেধার ও শরীরের প্রাকৃতিক বিকাশ নিশ্চিত করে।
BrainyBox BD-এর বিশেষ থ্রি-স্টেপ সাবস্ক্রিপশন প্রসেস যেভাবে আপনার প্যারেন্টিং সহজ করে
বাচ্চার শারীরিক পুষ্টি ও ওজনের পাশাপাশি তার মানসিক মাইলফলকগুলো ধরে ধরে প্রতি মাসে নতুন শিক্ষণীয় উপাদান বাজারে গিয়ে খুঁজে নেওয়া বেশ কঠিন কাজ। এই সমস্যার এক আধুনিক সমাধান নিয়ে এসেছে BrainyBox BD-এর মান্থলি সাবস্ক্রিপশন সার্ভিস। মাত্র ৩টি সহজ পদক্ষেপে প্রতি মাসে সঠিক লার্নিং বক্স পৌঁছে যাবে আপনার দরজায়:
উপযুক্ত প্ল্যানটি বেছে নিন: আমাদের অফিশিয়াল ওয়েবসাইটে প্রবেশ করে আপনার বাচ্চার বর্তমান বয়স এবং তার কগনিটিভ বিকাশের ধাপ অনুযায়ী সুনির্দিষ্ট প্যাকেজটি সিলেক্ট করুন। ১ বছরের বেশি বয়সীদের জন্য আমাদের বয়স-উপযোগী প্লে কিট কালেকশন থেকেও সরাসরি বেছে নিতে পারেন।
কিউরেটেড প্লে এসেনশিয়ালস বুঝে নিন: আপনার অর্ডার কনফার্ম হওয়ার সাথে সাথে আমাদের বিশেষজ্ঞরা বাচ্চার বয়সোপযোগী ইকো-ফ্রেন্ডলি, সেন্সরি-রিচ খেলনা এবং আকর্ষণীয় ইনফ্যান্ট বইয়ের একটি সুন্দর বক্স প্যাক করে সরাসরি আপনার হোম ডেলিভারি ঠিকানায় পাঠিয়ে দেবে।
শেখা ও আবিষ্কারের আনন্দ উপভোগ করুন: আপনার সন্তানকে দিন সম্পূর্ণ স্ক্রিন-মুক্ত, হ্যান্ডস-অন খেলার এক অপূর্ব স্বাধীনতা, যা প্রতি মুহূর্তে তার ব্রেইন ডেভেলপমেন্টে সাহায্য করবে এবং তার শরীরকে প্রাকৃতিকভাবে সক্রিয় ও সুস্থ রাখবে।
শিশুদের পিকি ইটিং বা খাবারে অরুচি দূর করার প্যারেন্টিং কৌশল
১ বছর পার হওয়ার পর শিশুদের মধ্যে হঠাৎ করেই খাবারে তীব্র অরুচি বা খাওয়ার সময় জেদ করার প্রবণতা দেখা যায়, যাকে শিশু বিজ্ঞানের ভাষায় পিকি ইটিং বলা হয়। অনেক মা-বাবা এই সময়ে বাচ্চাকে শান্ত করতে বা জোর করে খাওয়াতে মোবাইল স্ক্রিনের সাহায্য নেন, যা বাচ্চার স্বাস্থ্যের জন্য এক ধরনের নীরব ক্ষতি।
মোবাইল স্ক্রিনের উজ্জ্বল আলো এবং দ্রুত পরিবর্তনশীল গ্রাফিক্স বাচ্চার মনোযোগকে খাবার থেকে সম্পূর্ণ দূরে সরিয়ে দেয়। এর ফলে শিশু নিজের ক্ষুধা ও পেট ভরার সংকেত ঠিকমতো বুঝতে পারে না, ফলে সে হয় প্রয়োজনের চেয়ে কম খায় নয়তো তাড়াহুড়ো করে না চিবিয়ে গিলে ফেলে—দুটোই দীর্ঘমেয়াদে অনিয়মিত খাওয়ার অভ্যাস ও পুষ্টির ঘাটতির কারণ হতে পারে। এই সমস্যা দূর করতে জোরজুলুম না করে খাবারের পরিবেশকে আনন্দময় করতে হবে। বাচ্চা যখন ঘরের ভেতরেই কোনো ডিভাইস ছাড়া BrainyBox-এর মতো সৃজনশীল খেলনা নিয়ে খেলবে, তখন তার শারীরিক সক্রিয়তা ও কৌতূহল বাড়বে, প্রাকৃতিকভাবে এনার্জি বার্ন হবে এবং সে ক্ষুধার্ত হয়ে সঠিক সময়ে কোনো জেদ ছাড়াই খাবার খেতে চাইবে।
অনলাইন শপিং বনাম অফলাইন মার্কেট: সচেতন মা-বাবার আধুনিক ও নিরাপদ মাধ্যম
একটি ছোট বাচ্চা ঘরে রেখে প্রচণ্ড জ্যাম, ধুলোবালি এবং ভিড়ের মধ্যে সশরীরে গিয়ে বাচ্চার জন্য টক্সিন-মুক্ত শপিং করা বা সঠিক লার্নিং উপাদান খুঁজে বের করা অত্যন্ত ক্লান্তিকর ও কষ্টসাধ্য কাজ। তাছাড়া অফলাইন দোকানে পণ্যের উপাদানের শতভাগ নিশ্চয়তা পাওয়া যায় না।
এর বিপরীতে অনলাইন শপিং আপনাকে দিচ্ছে ঘরে বসে, শান্ত মাথায় সব পণ্যের রিভিউ এবং উপাদান যাচাই করে অর্ডার করার পরম স্বাধীনতা। BrainyBox BD-এ আমরা অভিভাবকদের দিচ্ছি একটি ওয়ান-স্টপ লার্নিং সলিউশন। আমাদের ওয়েবসাইটে প্রতিটি প্রোডাক্টের বয়সসীমা, কার্যকারিতা এবং ম্যাটেরিয়ালের বিবরণ বিস্তারিতভাবে দেওয়া আছে। সাথে থাকছে ক্যাশ অন ডেলিভারি এবং ৩-দিনের অত্যন্ত সহজ রিপ্লেসমেন্ট সুবিধা, যার ফলে আপনার কেনাকাটা হয়ে ওঠে সম্পূর্ণ দুশ্চিন্তামুক্ত ও নিরাপদ।
১৬ মাসের বাচ্চার খাবার ও দৈনন্দিন যত্ন নিয়ে কিছু সাধারণ প্রশ্ন ও উত্তর (FAQ)
১. ১৬ মাসের বাচ্চার খাবার তালিকায় প্রতিদিন কতবার খাবার দেওয়া উচিত? ১৬ মাস বয়সী বাচ্চার পাকস্থলী ছোট থাকে, তাই তাকে সারাদিনে অন্তত ৫ থেকে ৬ বার অল্প পরিমাণের পুষ্টিকর ও ঘরে তৈরি ক্যালোরি-ঘন খাবার বা নাস্তা দেওয়া উচিত।
২. এই বয়সের বাচ্চার খাবারে চিনি ও লবণের পরিমাপ কেমন হওয়া উচিত? দুই বছরের কম বয়সী শিশুদের খাবারে পরিশোধিত সাদা চিনি দেওয়া এড়িয়ে চলা উচিত এবং লবণের ব্যবহার একদম সামান্য বা নামমাত্র হতে হবে।
৩. BrainyBox BD-এর প্রোডাক্টগুলো বাচ্চার সুস্থ বৃদ্ধিতে কীভাবে সাহায্য করে? BrainyBox BD-এর খেলনা ও বইগুলো হ্যান্ডস-অন এবং স্ক্রিন-ফ্রি খেলার জন্য ডিজাইন করা। এগুলো বাচ্চাদের মোবাইল থেকে দূরে রেখে ঘরের ভেতরেই বিভিন্ন শারীরিক ও মানসিক অ্যাক্টিভিটিতে ব্যস্ত রাখে, যা তাদের শারীরিক সক্রিয়তা বাড়িয়ে প্রাকৃতিকভাবে ক্ষুধা তৈরিতে সহায়ক হতে পারে।
৪. ১৬ মাস বয়সী শিশুর গলায় খাবার আটকে যাওয়া এড়াতে কোন কোন খাবার বর্জন করা উচিত? বাচ্চার নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে আস্ত বাদাম, শক্ত ক্যান্ডি, বড় সাইজের আঙুর বা কাঁচা শক্ত সবজির টুকরো দেওয়া থেকে সম্পূর্ণ বিরত থাকুন। যেকোনো খাবার দেওয়ার আগে তা ভালোভাবে নরম ও চটকে নেওয়া নিশ্চিত করুন।
৫. BrainyBox BD-এর মান্থলি সাবস্ক্রিপশন বক্সের ডেলিভারি পেতে কতদিন সময় লাগে? আমরা সমগ্র বাংলাদেশে অত্যন্ত বিশ্বস্ততার সাথে হোম ডেলিভারি দিয়ে থাকি। ঢাকা শহরের ভেতরে সাধারণত ২৪ থেকে ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে এবং ঢাকার বাইরে যেকোনো জেলা বা উপজেলা পর্যায়ে ৩ থেকে ৫ কার্যদিবসের মধ্যে আমাদের এই বিশেষ ব্রেইন-বুস্টিং লার্নিং বক্সটি আপনার ঠিকানায় পৌঁছে যাবে।
৬. আপনাদের কাপড়ের তৈরি বইগুলো কি ধোয়া যায়? হ্যাঁ, BrainyBox-এর কাপড়ের তৈরি সফট বুক এবং সেন্সরি খেলনাগুলো সম্পূর্ণ ওয়াশেবল। এগুলো বাচ্চাদের উপযোগী মাইল্ড লিকুইড ডিটারজেন্ট দিয়ে হাত দিয়ে ধুয়ে কড়া রোদে শুকিয়ে নিলে আবার একদম জীবাণুমুক্ত হয়ে যায়।
৭. ডেলিভারি পাওয়ার পর কোনো পণ্য ত্রুটিপূর্ণ বের হলে আপনাদের রিপ্লেসমেন্ট পলিসি কী? আমরা প্রতিটি বক্স কুরিয়ারে দেওয়ার আগে কঠোরভাবে কোয়ালিটি চেক করে থাকি। তারপরেও যদি কোনো কারণে আপনার কাছে ত্রুটিপূর্ণ পণ্য পৌঁছায়, তবে আমাদের ৩-দিনের একটি সহজ রিপ্লেসমেন্ট পলিসি রয়েছে। আপনি সরাসরি আমাদের হটলাইনে কল করে বা ফেসবুক পেজে মেসেজ দিলেই আমরা সেটি দ্রুত পরিবর্তন করে দেব।
সুষম পুষ্টি এবং আনন্দময় শৈশবের এক সুন্দর মেলবন্ধন
দিনশেষে, একটি আদর্শ ১৬ মাসের বাচ্চার খাবার তালিকা মেইনটেইন করার মূল উদ্দেশ্য কেবল বাচ্চার পেট ভরানো বা ওজন বাড়ানো নয়; বরং তাকে ঘরের তৈরি পুষ্টিকর খাবারের মাধ্যমে একটি শক্তিশালী রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা এবং প্রাণবন্ত শৈশবের সূচনা এনে দেওয়া। খাবারের জোরজুলুম বা মোবাইল স্ক্রিনের ক্ষতিকর অভ্যাস পরিহার করে, বাচ্চার প্রতিদিনের খাওয়া এবং খেলাকে করতে হবে সম্পূর্ণ স্ক্রিন-মুক্ত ও সৃজনশীল।
আপনার সোনামণিকে শারীরিক পুষ্টির পাশাপাশি একটি চমৎকার, সুরক্ষিত এবং ডিজিটাল স্ক্রিন-মুক্ত মানসিক মেধা বিকাশের জগৎ উপহার দিতে আজই ভিজিট করুন BrainyBox BD। আপনার বাচ্চার বয়স অনুযায়ী সেরা লার্নিং বা সাবস্ক্রিপশন প্যাকেজটি বেছে নিয়ে তার প্রতিদিনের বেড়ে ওঠাকে করুন আরও পুষ্টিকর, অর্থপূর্ণ এবং জাদুকরী!



